সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

অন্ধ শয়তান ৪

"ওহ ডার্লিং তোমার চিন্তা কিসের , আলোক বাচ্ছা ছেলে , কিছুই জানে না , ডোন্ট ওরি !" মনিকা ইরশাদের মাথায় হাত বোলাতে থাকে ৷ "আচ্ছা জানু ওর দুর্বলতা কি ?" ইরশাদ মনিকার শরীরে খেলতে খেলতে প্রশ্ন করে ৷ মনিকা কিছুই বলতে পারে না ৷ কারণ আলোকের ঘর পরিবারের ব্যাপারে মনিকা কেন কেউই বিশেষ জানে না ৷ সুধু চোখের সামনে রুবির চুমু খাওয়ার দৃশ্য টা ভেসে ওঠে ৷ "কেন ওই নতুন মেয়েটা " ৷ মনিকা রঙ্গ করে বলে আলোকের মনের মানুষ রুবি ৷ ইরশাদ PP কে দিয়ে খবর পাঠায় দেখা করার জন্য ৷ PP খানিক পরেই চলে আসে ৷ ইরশাদের মাথায় মোটা টাকার বাজি লাগবে ৷ তাই এরশাদের কথা সুনতে হবে বৈকি ৷ PP ইরশাদের সাথে আলোচনা করতে থাকে ৷ " আমায় জিতিয়ে দাও , জেতা টাকা হাফ হাফ করে নেব অনেক টাকা ভেবে দেখো ! আমার দল সেলিমের থেকে অনেক শক্তিশালী ৷ আমাকে তোমার বেশি লাগবে ৷ সেলিম এর বয়েস হয়েছে আর DK কে দিয়ে কি বা করতে পারবে তুমি ৷" PP শান্ত হয়ে বললেন " আমার নিয়মের নড়চড় হয় না সেটা সেলিম বা ইরশাদ নামে কিছু এসে যায় না ! আর আমাকে যা বললে সেটা এখানেই এই আলোচনা শেষ করে ফেল ৷" ইরশাদ জানে PP উসুলের পাক...

অন্ধ শয়তান ৩

নিজের ঘরে এসে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে আলোক ৷ এ যাত্রায় বেচে গেলেও এই অন্ধকার জগতে তার হাথে খড়ি হয়ে গিয়েছে ৷ ইরশাদের হিংস্র মুখটা বার বার ভেসে উঠছে ৷ " সেলিম ভাই আপনি আমার কথা শুনুন , এই ছেলেকে মেরে কোনো লাভ নেই আমাদের বরণ ওহ নিজে ওর মৃত্যু খুঁজে নিক ৷ আপনার টাকা আপনার হাথে এসে গেছে ৷ JD এবার অনেক বড় বাজি লাগাবে ৷ এটাই সুযোগ আপনি হারলেও আপনার টাকা মার যাবে না ৷"DK সেলিম ভাই কে বোঝাতে থাকে ৷ PP এর সাম্রাজ্যে এই মত কা খেল এ র খেলায় সুধু খেলেই মারতে হয় না হলে এই প্রতিদ্বন্দী দের মারার নিয়ম নেই ৷ কেউ এদের ছুটেও পারবে না ৷ JD এর ভাই ইরশাদ ৷ DK আসে একটা ফাইল হাথে ৷ আলোকের পাশে বসে এক একটা করে পাতা দেখাতে সুরু করে ৷ রুবি চলে যায় ঘর থেকে ৷ ওদের ঘরে থাকার নিয়ম নেই মালিক আসলে ৷ "নিগম আরো এক জন খেলওয়ার ৷ সে বারো জন বেচে গিয়েছে প্রথম রাউন্ড -এ তাদের মধ্যে সত্য়া, মেহুল , মদন, ইসমাইল , বিনোদ,টনি , মাসিহা, রেজান , , ভূষণ , ইন্তেখ্বাব আর জেকব ৷ প্রত্যেকেই জেল খাটা আসামী ৷ সত্য়া ভিষণ মোটা লম্বা দশাসই চেহারা ৷ ৪ বছর আগে তারই দলের ৪ জনকে কুপিয়ে ধরা পড়ে যায় পুলিশের কাছে ৷ বছর ৪এক...

অন্ধ শয়তান ২

৪৫ মিনিটেই আলোক বিশাল পুরনো একটা ব্রিজের সামনে এসে পৌছালো ৷ হাথের ব্যাগটা পিঠে নিয়ে রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ালো একটু ৷ গাড়ির আলোয় আলোকে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে যেকোনো লোকের সন্দেহ জাগতে পারে ৷ সিগারেট ধরিয়ে টান দিতে দিতে ভাবতে থাকলো সে ৷ তার ভ্যাগের রাজা সে নিজেই ৷ নিজেই বেছে নিয়েছে এই সিধান্ত ৷ কি পাবে কি পাবেনা সে জানে না ৷ তবে অনেক টাকার কথা শুনেছে পুনীত এর মুখে ৷ সিগারেট ফেলে ছাদিক দেখতে লাগলো সে ৷ অনেক দুরে টিম টিম করে আলো জ্বলছে ৷ গ্রামের দোকানের আলো হবে এসব ৷ ব্রিজের নিচে হালকা জলের শব্দ আসছে ৷ পাশে জঙ্গল নদীর ধার দিয়ে ৷ ঝি ঝির আওয়াজে গা শিউরে উঠছে থেকে থেকে ৷ আরেকটা সিগারেট ধরালো ৷ পরিবেশ ঠান্ডা , গরম নেই এই দিকটায় ৷ হালদা হওয়া বইছে , ব্রিজের ওপারে একটা ট্রলার আসছে , আলোতে দেখতে পেল রাস্তা টা দু ভাগে ভাগ হয়ে গেছে ৷ ঘড়িতে ঠিক ৮ টা বাজে ৷ মনটা অস্থির হয়ে উঠেছে ৷ কানের পাশ দিয়ে ক্যা ক্যা করে কিছু একটা উড়ে গেল ৷ সংকেত টা আলোকের বিশেষ ভালো লাগলো না ৷ এমনিতেই অন্যের নাম ভাঙিয়ে এতদূর এসেছে সে ৷ একটা কালো কাঁচে ঢাকা কালো গাড়ি এসে আসতে আসতে দাঁড়ালো একটু দুরে ৷ আলোক বেরিয়ে ব্রিজের ঠিক...

অন্ধ শয়তান

ব্রজ বাবু আলোকের হাথ ধরে রাস্তা পেরিয়েই বলে উঠেলন " সাবাস বাবা সাবাস , ভগবান তোমার ভালো করুন !" আলোক নিপাট ভদ্র একটা ছেলে , খেটে খায় বাড়িতে দুই দিদি অবিবাহিতা, বিধবা মা ৷ কলকাতায় চারজনের সংসার চালানো মুখের কথা নয় ৷ মঞ্জু দেবী ভালো সেলাইয়ের কাজ জানেন ৷ রাজাবাজারের সুইটের দোকান ধরা আছে তার মাস গেলে হাজার পাচেক টাকা ঘরে আসে ৷ ব্রজবাবু কখনো আসেন নি, নামেই চেনে তার বাড়িতেই অনেক বছর আছে আলোক। মাথা না ঘামিয়ে হন হন করে কাজে বেরিয়ে গেল সে। নমিতা আর সবিতা সকালে বাচ্ছাদের পড়ায় আর বিকেলে কম্পিউটার শিখতে যায় ৷নমিতা ২৬ আর সবিতা ২৪ আলোক ২২ এ পা দিয়েছে ৷ ব্রজবাবু বলেছেন কম্পুটার শিখলে কিছুনা কিছু কাজ পাওয়া যায় ৷ দুই বোনই উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছে ৷ দুই বোন গুনে লক্ষী ৷ নমিতা একটু শ্যামলা গড়ন আর বাড়ির বড় তাই তার বিয়ে হচ্ছে না ৷ সবিতা দেখতে নমিতার মত না হলেও পড়াশুনা ভালো , দু চারটে সম্বন্ধ যেচে এসেছে কিন্তু নমিতার বিয়ে না দিয়ে সবিতার বিয়ে দিতে রাজি নন মঞ্জু দেবী ৷ ব্রজবাবু অন্ধ ৷তাকে কেউই চেনে না , তারই আত্মীয় এসে মাসে মাসে যত সামান্য ভার নিয়ে যায়। তার বাড়িতে দুটি পরিবার ভাড়া থাকে ...